মঙ্গোলিয়া কাশ্মীরি পোশাক ও চামড়া রফতানিতে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে পেতে চায়। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রম সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত গানবোল্ড দামবাজাভ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে গতকাল বৈঠকটি হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গানবোল্ড দামবাজাভ বলেন, ‘মঙ্গোলিয়া কাশ্মীরি পোশাক (কাশ্মীরি উলজাত পণ্য) ও চামড়া রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন অংশীদার খুঁজছে। এখানে বাংলাদেশের দক্ষতা, মূল্য সংযোজন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্প কাঠামো বিশাল সুযোগ তৈরি করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘টেক্সটাইল উৎপাদন ও যৌথ প্রক্রিয়াকরণ খাতে বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সহযোগী হতে পারে।’
বৈঠকে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরিন ফাতেমা আউয়াল। বিজিএমইএর পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, কাজী মিজানুর রহমান, আসেফ কামাল পাশা, রুমানা রশীদ ও সামিহা আজিম।
বৈঠকে সেলিম রহমান রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রফতানি বাজার বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যে বিজিএমইএ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা শিল্প খাতের জন্য সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।’
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিস্তারের বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষ করে কাশ্মীরি উলজাত পণ্য, চামড়া, টেক্সটাইল উৎপাদন, যৌথ প্রক্রিয়াকরণ, খনিজ সম্পদ ও লজিস্টিকসহ একাধিক খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গানবোল্ড দামবাজাভ আরো বলেন, ‘মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মঙ্গোলিয়ায় বিনিয়োগ করলে এসব উন্নত বাজারে শুল্ক সুবিধাসহ পণ্য রফতানির বড় সুযোগ পাবেন।’ তিনি বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের কৌশলগত খনিজ, মূল্য সংযোজন শিল্প, প্রক্রিয়াকরণ ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে মঙ্গোলিয়ার নির্মাণ শিল্প, সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, রেল উন্নয়ন, কৃষি এবং মাইনিং খাতে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।
এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বিজিএমইএ ও মঙ্গোলিয়ান চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কয়েকটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।